Saturday, October 28, 2017

পাঠপ্রতিক্রিয়া: Tantrics Of Old - Krishnarjun Bhattacharya


Tantrics Of Old
Krishnarjun Bhattyacharya


অদ্রি সেন, Rogue তান্ত্রিক, যদিও এখন সেই রক্তাম্বর পরা, জটাধারী তান্ত্রিক কেউ আর নেই, (বলতে গেলে এরা সেই Constantineর মতো) নিউ কোলকাতার বাসিন্দা সে। এক সকালে অদ্রির ঘুম ভাঙে স্বয়ং মৃত্যুর মুখোমুখি হয়ে, এখন তার হাতে মাত্র ২৪ঘন্টা। তারপর অদ্রির আত্মা চলে যাবে মৃত্যুর হাতে।
মৃত্যুর ঘোড়সওয়ারের হাত থেকে অদ্রি পালাতে থাকে পুরানো কলকাতার রহস্য, জাদু ও পিশাচে ঘেরা মাঝ দিয়ে। এখন এই কলকাতা প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত শহর। তার সঙ্গী হয়ে ওঠে মায়া ঘোষ আর এক Assassin গ্রে ঘোষ।
পুরোটাই কৃষ্ণার্জুনবাবু বুনেছেন Post-Apocalyptic কলকাতায়। পুরানো কলকাতার এই ধ্বংসাবশেষে ঘুরে বেড়ায় নরকের দানবরা, ভয়ঙ্কর ডাইনি আর তান্ত্রিকরা। আনাচে কানাচে অন্ধকারে সেখানে উঁকি মারে অশরীরী ছায়ারা।
আর পুরানো কলকাতা বলেই উপন্যাসটি আরো টেনে রাখে আমাদের। চেনাশোনা জায়গাগুলোর কেমন রূপ নিয়েছে দেখতে দেখতে আগ্রহ আরো বেড়ে ওঠে।
কিন্তু কিভাবে এই Apocalypse ঘটল, পুরানো কলকাতা Wastelandএ রূপান্তরিত হল কিভাবে, Anti-Magic Govt. কেন? কি জন্য? তা সম্পূর্ণভাবে ব্যাখা করেননি লেখক, টুকরো টুকরোভাবে মাঝে মাঝে সে প্রসঙ্গ এলেও তা যথেষ্ট নয়।
প্রশংসনীয় হল বাংলার বিভিন্ন উপকথা, দত্যি-দানোদের গল্পকথাগুলোকে তার লেখাতে সুন্দরভাবে প্রয়োগ। ঠিক যেমন Western Fantasy গুলোতে বিভিন্ন Mythical Creature দের ব্যবহার করা হয়, তেমনি এ উপন্যাসেও লেখকের হাতে বাংলার রূপকথার চেনাশোনা এলিমেন্টগুলো নতুন রূপ পায়।
মোটমাট একটা সুপাচ্য Dark Fantasy Novel এর জন্য যা যা প্রয়োজন সবকটিই এই উপন্যাসে কম বেশি বর্তমান। তাছাড়া Non Western Fantasy ভারতে খুবই কম। আর উপরি পাওনা উপন্যাসটি আমাদের বাংলার ঘরের মাশমশলা দিয়ে পরিপাক করা বলে একটা কৌতূহল বার বার কাজ করে পড়ার সময়।
কৃষ্ণার্জুনবাবু যে বেশ বলিষ্ট লেখক কাহিনীর ঠাসবুনোনেই তার পরিচয়। New কলকাতা ও Old কলকাতার ছোটখাট বর্ণনাগুলি, তার গল্প বলার ধরণে, কাহিনীর চরিত্রগুলোতে সেই ছাপ স্পষ্ট। টানটান উত্তেজনায়, অতিপ্রাকৃত আবহে এই উপন্যাস বেশ টেনে রাখে।
(P.S-- এর দ্বিতীয় খন্ড Horsemen Of Old প্রকাশিত হয়েছে, যদিও সংগ্রহ করলেও এখনো পড়া হয়ে ওঠেনি।)

চন্ডীপাঠে বিগ বাজার

পুজোর একটু আগের ঘটনা, মহালয়া আসব আসব করছে।
স্কুটি চালিয়ে বাড়ি ফির‍ছি। একগাদা জ্যাম-ট্যাম কাটিয়ে সবে ফাঁকা রাস্তা পড়েছে। ফুরফুরে হাওয়া লাগছে। এমন সময় শুনি কোথাও মাইকে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র চন্ডীপাঠ করছেন.... মহালয়ার আগেই (বোধহয় পূজাসংখ্যাগুলো অগস্টে বেরিয়ে যাচ্ছে বলে উনিও এখনই...) 

তা বেশ লাগছে.... 
"আশ্বিনের শারদ প্রাতে বেজে উঠেছে আলোকমঞ্জির, ধরনীর বহিরাকাশে অন্তরিত মেঘমালা, প্রকৃতির 
অন্তরাকাশে জাগরিত; 
এই পুজোয় চলে আসুন বিগ বাজারে... সমস্ত কেনাকাটির ওপর রয়েছে আকর্ষনীয় ছাড়, ছোট থেকে
বড় সকলের মন মাতানো পোশাক সহ...."
ইইই কিইই.... এইসব তো ছিল না? আর বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের অমন দরাজ গলাটা এমন বদলে গেল কেন?
তাইলে কি এদ্দিন সারাজীবন মহালয়ার ভোরে ঘুম ঘুম চোখে চন্ডীপাঠটা ভুলই শুনিচি? দেবী মহিষাসুর বধের আগে বিগ বাজারে কেনাকাটি করতে গেসলেন? 🤔🤔🤔 ।
ততক্ষণে মাইকের উৎসস্থলে চলে এসেছি... হাঁফ ছেড়ে দেখি... না বাবা বীরেন্দ্র ভদ্র বাবু না... ইহা বিগ বাজারের প্রচার গাড়ি... চন্ডীপাঠের মাঝে মাঝে মাইক হাতে সেলের বিজ্ঞাপণে রত। তবু ভালো...

অবাক ব্রেকফাস্ট

ব্রেকফাস্টে ঠিক করেছিলাম কফি আর পুনুগুলু (ডালের গোল গোল বড়ার মত) খাওয়া যাবে। আজ একটু দূরে এসেছি ভেল্লোর থেকে। একটু গ্রাম গঞ্জ সাইড, এদিকটায় নারায়ণী হাসপাতাল আর গোল্ডেন টেম্পেল রয়েছে। 
তা এই বড়াটার প্রপার নামখানা আমার জানা ছিল না। ভেল্লোরের ওখানে ভেজে ট্রেতে সাজানো থাকে দেখিয়ে দিলেই যথেষ্ট। আর পোনগুল বললেও বোঝে। 
এদিকটায় নারায়ণী হাসপাতাল থেকে একটু দূরে কয়েকটা খাবারের হোটেল পাওয়া গেল। সেখানে ঢুকে সোজা বল্লুম --কফি অ্যান্ড পোংগুল। হোটেলের ভদ্রমহিলা অবাক! ওনাকে দেখে আমিও ভাবছি যা বাবা!  অবাক হলেন কেন? হলটা কি? তিনি অবাক মুখে আবার জিজ্ঞেস করলেন-- কাফি আন্ড পোংগলা?
আমি হ্যাঁ বলতে অবাক হয়ে চলে গেলেন।
খানিক পরে ফিরে এসে যেটা সামনে রেখে গেলেন তা দেখে এবার আমার হাঁ হবার পালা।
সাদা সাদা খিচুড়িমত কি একটা মাখামাখা জিনিস, তাতে গোটাগোলমরিচ, ফোড়নের ডাল আর কারিপাতা উঁকি মারছে। সাথে সাম্বর আর চাটনি।
কিন্তু একদম অপ্রস্তুত হওয়া চলবে না, কোথাকার কোন গাঁইয়া পাবলিক ভেবে বসে পাছে আমায়।
গম্ভীর মুখে একচামচ মুখে চালান করা গেল। মন্দ নয় খিচুড়িই বটে, টকটক, মশলা নেই একদমই। (তাছাড়া এখানে এসে অবধি নতুন নতুন রান্না ট্রাই করছি। আর তামিল রান্নাগুলো এই গরমে দেখেছি এখানকার বাঙালি খাবার চেয়ে ভালো। শরীর বেশ ঝরঝরে রাখছে)
শেষ করার পর কফি এল, সেটাও ডাঁট নিয়ে খেলাম যেন সক্কাল সক্কাল খিচুড়ি দিয়ে কফি খাওয়া আমার চিরকালের অভ্যাস।
বাইরে এসেই গুগলের শরনাপন্ন হওয়া গেল। জানা গেল ঐ গোলগোল বড়ার মত জিনিসটার প্রপার নাম হল পুনুগুলু। আর পোনগল বলতে এই হালকা খিচুড়ির মত জিনিসটাকে বোঝায়।

পাঠপ্রতিক্রিয়া: রূপকথার জন্মদিন-সৌরভ মুখোপাধ্যায়

গোরুখোঁজা করেও ঘোড়াড্ডিম পেলাম না। শেষমেষ হায়দ্রাবাদে ট্রীটমেন্টে গিয়ে ধার নিয়ে এলাম শিংদির থেকে,কিনবার হাজার ইচ্ছে থাকলেও আউট অফ প্রিন্ট, তাই দিদি এই ভাইটির আবদার মেনে একবাক্যে ধার দিয়ে দিল। তারপর ভেল্লোর গিয়ে সেখানে হোটেলে দিনগুলি কাটল "ঘোড়াড্ডিম" নিয়েই।এক এক করে লেখাগুলো পড়ছি, সকাল থেকে দুপুর তারপর সিএনসিতে একটু হাজির হওয়া মামার ট্রীটমেন্ট কদ্দূর এগুলো দেখতে।
তবে সবচেয়ে শেষে যেটা পড়ব বলে তুলে রেখেছিলাম সেটা অবশ্যই Sourav Mukhopadhyayর "রূপকথার জন্মদিন"। একটানে শেষ করেছি উপন্যাসটা। লেখার ধরণ আধুনিক নয় বেশ পুরানো দিনের আনন্দমেলা পূজাবার্ষিকীর কথা মনে করিয়ে দিলেন সৌরভবাবু।
প্রথমেই মনে পড়ে সমরেশ মজুমদারের "সাতকাহন" এর কথা, যদিও সেটি কিশোরপাঠ্য নয়।
আর মনে পড়ে বিমল মিত্রের কিছু কিশোর উপন্যাসের কথাও। বেশ পুরানো আনন্দমেলা পূজাবার্ষিকী দুটো আছে বাড়িতে তার সাল-টালের পাতা নেই। সেখানে পড়েছিলাম "কাহিনীর নায়ক দাশরথি"। সেটি ছিল এক দরিদ্র পিতৃহীন কিশোরের এগিয়ে চলার কাহিনী।
সৌরভবাবুর উপন্যাসটি অবশ্য অনেকটাই আলাদা, তবে পুরানো এইসব হারিয়ে যাওয়া লেখনীকে আবার মনে করিয়ে দিয়েছেন। রহস্যমেলার ঘনঘটাতে এমন জীবনজয়ের কাহিনিগুলি হারিয়ে গেছে। সেটিকে ফিরিয়ে আনলেন সৌরভবাবু। একটুও অতিরিক্ত আবেগময় প্যাচপ্যাচানি, একটুও সোপ অপেরা টাইপ সেন্টিমেন্টাল সুড়সুড়ি, একটুও কাহিনীর মধ্যে দিয়ে একগাদা উপদেশ গেলানোর চেষ্টা নেই তাতে। একদম পাকা রাঁধুনির মাপমত রান্না।

মাধ্যমিক উৎসব

হুম বাবা মাধ্যমিক পরীক্ষা... আবারও সিট পড়েছে আমাদের স্কুলে, তার ওপর কিনা মেন ভেন্যু, এট্টু কেৎ মেরে না গেলে চলবে কেন? তাই চান-টান করে খুব কষে শেভ করা গেল। সম্বৎসর হালকা চটি দিয়ে চালিয়ে দিই... এবার ঝেড়েঝুড়ে জুতোজোড়া বের করা গেল। শার্ট ছেড়ে একখানা টি-শার্ট আর জাম্পার (ইস... একখানা কেডস কিনলে হত.. আজ টাইম নেই যাগগে কাল দেখা যাবে।) আমাজনের কল্যানে ডিসকাউন্টে কেনা বড় ডায়ালের ফ্যান্সি ঘড়ি বেরুল। এই বয়সে যতটা ইয়ং সাজা যায় সাজাও গেল (ইয়ে বয়স কিন্তু তা-বলে আবার বেশিও নয়। তা বলে আরো কমানোর চেষ্টা করবনা ?..... বয়স কমানো সব মানুষের মৌলিক অধিকার। কেবল মেয়েরা কমাবে কেন? জেণ্ডার ইক্যুয়ালিটি বলে কথা আছে না? )

এদিকে স্কুলের সামনে বাস-স্টপ নেই। বেসরকারি বাস-টাস গুলোই চিরকাল দাঁড়িয়ে থাকে। স্টেট বাসগুলো সব গ্রাম্ভারি সরকারি যন্তর... দাঁড়াতে চায়-টায় না। জংশনে গিয়ে যেই অভ্যাসমত বেসরকারি বাসে উঠতে গেছি..... দেখি কেয়া তাজ্জব কি বাত!!! আজ স্টেট বাসের থেকেই মধুর ডাক -- এটাতে চলে আসুন... আজ তো মাধ্যমিক, স্কুলের সামনে দাঁড়াবে। আহা.. আহা.. কোন সে স্টেটের স্বপ্ন নিয়ে যেন আমায় কে ডাকে আয় চলে আয়।
একদম ভুলে গেছিলাম ! এই অর্ডারখানা আছে বৈকি.... এ'কদ্দিন হচ্ছে হম লোগোঁকা প্রতিশোধ নেবার হপ্তা। যে সব ট্যারা কন্ডাকটর আধ কিলোমিটার দুরে নামিয়ে দেয়... তাদের ওপরে ঘ্যামসে -- মাধ্যমিকের ডিউটি.... অর্ডার আছে নামাতেই হবে.... বলে দিব্যি তূরীয় আনন্দ ভোগ করা যায়। না নামালে এনবিএসটিসির আর লোকাল থানার নাম্বার নেওয়া আছে.... হুম বাবা.... রিভেঞ্জ ইজ আ ডিশ উই গেট টু সার্ভ কেবল ওয়ান্স এ ইয়ার।

যা হোক স্কুলের ভেতরে গিয়ে দেখি বিরাট মেলা বসেছে....মাঠে চাদর পেতে অভিভাবিকাগণ (ইয়েস অভিভাবিকাগণ.... অভিভাবকগণ অত চাপ খাওয়া ও চাপ দেওয়া পার্টি নন। তাদের ছেলে মেয়েদের তাদের ওপর পূর্ণ আস্থা আছে। ভালো করলে ভালো... না করলে চরে খা ব্যাটা !) সন্তানদের প্রি-পরীক্ষা কোচিং দিচ্ছেন, এক্ষুণি মঙ্গলযান বৃহস্পতিতে ছাড়া হবে মতো ভয়ানক সিরিয়াস মুখ করে। যত না ছাত্র-ছাত্রীদের ভিড়.... তার চাইতেও তিনগুণ তাদের গার্জেনদের ভিড়। পরীক্ষার্থীদের টেনশন তো কিস্যু নয়... তার চাইতেও চৌদ্দগুণ টেনশন আহত মুখ নিয়ে গার্জেনরা ঘুরছে.... শেষে মেয়েকেই না অজ্ঞান হয়ে পড়া মা'কে সামলাতে হয়।
মেয়েদের মায়েদের কাছে ইয়া ঢাউস সব ব্যাগ.... ওতে জলের বোতল, পেটখারাপের ওষুধ, মাথা ব্যাথার ওষুধ, ইনসমনিয়ার ওষুধ, তালমিছরী, ঈশবগুল, রিভাইটাল,কমপ্লান, হরলিক্স, হোমিওপ্যাথী-অ্যালোপ্যাথী-সিমপ্যাথী-এমপ্যাথী খুঁজলে পুরো নিউ মার্কেট পাওয়া যেতে পারে।
এদের হল থেকে তাড়িয়ে পরীক্ষা শুরু করাই মুশকিল ! কাইন্ডলি বাইরে যাবেন আপনারা বললে, এমন করুণ মুখ করে কেউ কেউ তাকান যে নিজেদেরই গিল্টি ফিল হতে বাধ্য... ইসসস.... আহা উনাকেও একখানা বেঞ্চে বসিয়ে দিই না কেন...খাতা-টাতা দিয়ে।

অনেক কষ্টে যদিও বা নামানো গেল.... নিচে মাঠের থেকে চিৎকার করে উপদেশাঞ্জলি বিতরণ শুরু হল.....যদিও সম্মিলিত উপদেশাবলী মিশ্রিত হয়ে বিচিত্র একখানা র‍্যাপ গানে পরিণত হয়েছে সেইটে যে কারোরই কানে ঠিকঠাক পৌছনো মুশকিল....। তবে ব্যপার হল... সবারই যেহেতু মেন কন্টেট এক, সেজন্যে সারমর্ম বোধহয় মর্মে ঠিক প্রবেশ করে গেছে পাত্র-অপাত্র নির্বিশেষে ।
একজন অভিভাবকের তো দুশ্চিন্তায় পুরো গজনি কেস.... সর্ট টার্ম মেমরি লসে ভুগছেন। মেয়েকে হাত ধরে ঘরে বসিয়ে নিচতলায় নেমে এসে, মাঠ থেকে চিৎকার করছেন মেয়ের উদ্দেশ্যে.... ওরে, মৌ ! ঠিকঠাস পৌঁছেসিস তো?

এদিকে কাজের মাসিকে অবাক করে পাঁচদিন ছুটি দিয়ে... মায়েরা শতরঞ্চি, জলের কুঁজো, গত শীতে না বোনা উল, হাওয়া খাওয়ার খবরের কাগজ নিয়ে চলে এসেছেন। গেট বন্ধ হলে প্ল্যাটফর্মে উপবিষ্ট অপেক্ষারত যাত্রীর মত বাইরে দোকান-টোকানের বারান্দায় বসে পড়বেন... তারপর পরীক্ষা শেষে গেট দিয়ে মেয়ে বেরুলেই ব্যাঘ্রঝম্পনে প্রশ্নপত্র দখল ও পুনরায় পরীক্ষা... পাঁচ নম্বরটার উত্তর কি লিখেছিস? রচনাটা কালকেই মুখস্থ করলি না? সবকটা পয়েন্ট লিখেছিস?... অ্যাঁ এইটে ছেড়ে এসেছিস? গত অমাবস্যার দিনই না মুখস্থ করালাম? বাড়ি চল তোর হচ্ছে।

(মোরাল অফ দ্য স্টোরি--- সাজগোজটা মাঠে মারা গেল। এত গোলমালের মধ্যে একজনও ফিরে তাকাল না।)
সাধারণত রেস্তোঁরা-ফেস্তোঁরা নিয়ে বেশি কিছু বলিনা.... আসলে আলসারের রুগী হলে যা হয় আরকি.... ইচ্ছে থাকলেও বেশি উপায় নেই। তবু যে মাঝে মাঝে এট্টু চাখাচাখি করিনা যে তা নয়।
লিখতে বসলাম কারণ সরকারী উদ্যোগে এত ভালো একখানা লজ অ্যান্ড রেস্তোঁরা সত্যিই ভাবতে পারিনি। কার্শিয়াং-এ ঘুরতে গেসলুম আজ বন্ধুটিকে নিয়ে। তা সেই নিয়ে গেল....কার্শিয়াং ঢোকার মুখেই (NH-55) মোটামুটি কার্শিয়াং স্টেশনের ১কি.মি আগে এইটে। প্রথমেই তো বাইক থামিয়ে ওকে নামতে দেখে বললাম এতে যাবি? আর কোনকিছু নেই আগে গিয়ে?
না না West Bengal Tourist Development Corporation এর লজ ও রেস্তোঁরার বোর্ড দেখে নয়। এত ঝাঁ-চকচকে একখানা বাড়ি দেখে..... কত খসতে পারে সেই এস্টিমেট করে নিই আগে... কেননা "কেয়া করেঁ সাব, হামি গরীব আদমি"।
আশ্বস্ত হয়ে ভেতরে ঢুকে হাঁ হয়ে গেলাম। ঝকঝকে কাঠের মেঝে আর দেওয়াল.... সব একেবারে ঝকঝকে তকতকে.... ইউনিফর্ম পরা ওয়েটাররা সমাদর করেই বসাল। আর কি বড় বড় জানালাগুলো দিয়ে কি অপূর্ব ভিউ আশেপাশের পাহাড়গুলির পাহাড়ের গায়ে ধূপীবন আর ওপাশে শহরের ।
আমি আবার যে কোন রেস্তোঁরায় গেলেই একটা জিনিস চেক করি.... ওয়াশরুম !! হুম বাবা যত ঝকঝকে বাইরে করে রাখো না কেন... ওয়াশরুমে ঢুকলেই বোঝা যায় আসলে খবর। তা ব্যাগ পত্তর নামিয়ে সেদিকে গিয়ে আমা হেন জোঁকের মুখে নুন। কাঠের মস্ত মস্ত পলিশ্ ড দরজা। ভেতরে সব একেবারে পাতি বাংলায় যাকে বলে 'গ্লেজ মারছে" টয়লেট বৌল অবদি। (তাই তো বলে বোধহয়... কে জানে? ঐগুলোকেও কমোড বলেই ডেকে এসেছি।) আর ওডোনিলের সুবাস চারপাশে।
তবু আমি ছাড়ব না.... সরকারি উদ্যোগ আর খুঁত থাকবেনা? ফাঁকিবাজি হবেনা? নিশ্চই রান্না খারাপ....না হলে তিনদিনের বাসি রান্না গরম করে দেবে, টকটক গন্ধ ছাড়বে হাল্কা হলেও। যা হোক বন্ধুটির ঘাড়েই অর্ডারের দায়িত্ব দিলাম।.... চিকেন রোস্ট, ফিশ ফিংগার, চিজ আর চিকেন স্যান্ডুইচ দু প্লেট করে।এলো খাবার বেশ পরিস্কার শুভ্র প্লেটেই। ওমা!! এটিতেও কোন খুঁত নেই। দারুন সুস্বাদু, পঁচা নয়, গন্ধ ছাড়ছে না, আধকাঁচা রান্না নয়... সব একদম সুপারফাইন।
শেষপাতে মোহিত করা সুগন্ধী মকাইবাড়ির চা। পট সিস্টেম.... বড়সড় টী-পটের একপট চা ৬০/- তাতে দিব্যি চারকাপ চা হয়ে যায়। সাথে স্ট্রেইনার, সুগার বৌল দেবে। বন্ধুটিই সার্ভ করল... ঢালার সময়েই বুঝতে পারলাম পয়সা উসুল.... সুগন্ধে ভুরভুর করছে কাপ.... চাইলে ফ্রেশ ক্রীমের বৌলও দিয়ে যায়...
তবে কিনা অমন পাপ করতে নেই, যেসব পাপী জনগন দার্জিলিং চায়েতে দুধ বা ক্রীম মিশিয়ে ওটিকে ধ্বংস করেন.. তাপ্পর মুখ সিঁটকে বলেন... দূর কোন স্বাদ পেলুম না... এথ্থেকে আমাদের দানা -চা কড়া করে দুধ দিয়েই ভালো। তাদের জন্য চা-স্বর্গে প্রবেশ নিষেধ। এই চা-য়েতে হালকা করে চিনি দিয়ে জানালা দিয়ে মেঘ-কুয়াশার খেলা দেখতে দেখতে যে স্বর্গসুখ পেলাম আহা....।
বেঁচে থাকো বাপ....West Bengal Tourist Development Corporation এমন সার্ভিস পাব জীবনে আশা করিনি।
ইয়ে থ্যাঙ্কস আমার বন্ধুটিকে, আনন্দবাজারে আছে তাই এদিক সেদিক ঘুরে বেড়াতে হয় বলে এইসব জায়গার খোঁজখবরগুলো বেশ লাগিয়েছে। ওর কাছেই শুনলাম এইরকম ভালো West Bengal Tourist Lodge আর আরেকটি জায়গাতেই আছে নর্থে সেটি মালবাজারে। ঐখানেও অভিযান চালাতে হবে দেখছি শিগগিরই।
                 
 — in Kurseong.

দ্য ন্যাপকিনস

ডিসক্লেইমার:- মাইরি বলছি, হাস্যকর শোনালেও সর্ব্বৈব সত্য ঘটনা। স্থান, কাল, পাত্র কোনটাই কাল্পনিক নয়।

ব্যাপার হল... আমাদের স্কুলে pubescent মেয়েদের স্যানিটারি ন্যাপকিনের হঠাৎ দরকার পড়ে গেলে স্কুল থেকেই দেওয়া হয়.... টিচার্স রুমের এককোণে একখানা বড় বাক্সে থাকে, মেয়েরা এসে ম্যাডামদের বললে, তারাই দিয়ে দেন। 
তা বেশ, সে ভালো কথা, তবে ঘটনা কিন্তু সেইটে নয়।
আসল খোরাকটা বলবার আগে এট্টু কনটেক্সটটা বলে নিই। ন্যাপকিনের সাপ্লাইগুলো আসবার পর আমাদের পিওনদাই সেগুলো বাক্সে ভরে রাখে,
মাঝে মাঝে কোন সংস্থা স্কুলে এই বয়ঃসন্ধিকালীন সচেতনতা নিয়ে মিটিং বা শিবির করতে এলে, হেডমাস্টার পিওনদাকেই বলেন ন্যাপকিনের প্যাকেটগুলো নিয়ে আসতে।
এবার আসি সেই ঘোরালো ঘটনাটায়।
সেদিনটায় হল কি, অন্যান্য অনেক স্কুল থেকে বেশ কিছু ম্যাডামরা এসেছেন, Work Education নিয়ে কি একটা মিটিং। সেটা হেডুর ঘরেই হচ্ছে। আমাদের হেডু আবার গেস্টদের খাতির করেন খুব (নিজের এমপ্লয়িদের এককাপ বাসি চা-ও দেন না সে আলাদা কথা, যাগগে)। মিষ্টি-ফিষ্টি, সিঙ্গারা-টিঙারা গরম গরম আনিয়ে খাওয়ানো হয়েছে.....

তাপ্পরেই লাগল সেই গন্ডগোলটা, খাওয়াদাওয়া-টাওয়া সব শেষ করে, হাত মুছবার জন্য ম্যাডামরা রুমাল খুঁজতে লেগেছেন..... হেডু বেশ কেৎ মেরে ওদিকে পিওনদাকে ডেকে বলেছে কিছু ন্যাপকিন নিয়ে আসতে ম্যাডামদের জন্য।

পিওনদা এদিকে সম্বৎসর ন্যাপকিন বলতে ঐ স্যানিটারি ন্যাপকিনের কথাই বুঝে এসেছে। হাত মোছার জন্য যে টিস্যু পেপার চাইছে সেইটে কে জানে?
পিওনদা তাই সোজা টিচার্স রুমে ঢুকে, স্যানিটারি ন্যাপকিনের গোটা কার্টনটা দু'হাতে ধরে হেডুর ঘরের দিকে হনহনিয়ে দৌড়।
ভাগ্যে হেডুর ঘরে কাঁচের দরজা, তাই পিওনদা ঢোকার আগেই .... হাঁ হাঁ করে পিওনদাকে ঘরের বাইরেই আটকে হেডুর বিপর্যয় রদ সম্ভব হল।
পরে সব সামলে টামলে, পিওনদা আমাদের ঘরে এসে বলে-- ভাগ্যিস কার্টন থেকে বের করে সোজা প্যাকেটগুলো নিয়ে যাইনি !!

জ্বি... বাংলা?

সেইদিন হল কি, ডাক্তারের চেম্বারের বাইরে হলঘরে বসে আছি অপেক্ষায়, আরো অনেক পেশেন্টের সাথেই। হলঘরটি যেমন হয়ে থাকে একগাদা ওষুধের বিজ্ঞাপণ সম্বলিত। উল্টোদিকের দেওয়ালের একদম উপরবাগে একখানা মাঝারি LED টেলিভিশন ঝুলছে, আপাতত বন্ধ।
অনেকক্ষণ ধরে দেখছি মাঝবয়সি একজন মহিলা উসখুশ উসখুশ করে যাচ্ছেন। শরীরটা বেশিই খারাপ বোধহয়...বসে থাকতে কষ্ট হচ্ছে। 
খানিক পরে, নাম ডাকার জন্য নার্স কাম অ্যাসিস্ট্যান্ট মেয়েটি এলে সেই ভদ্রমহিলা আর থাকতে পারলেন না।
------- আচ্ছা !! টি.ভি. টা একটু চালানো যায় না ভাই?
আরতারপরেই উসখুশানির মোক্ষম কারণটি জানা গেল, জ্বর ফর শরীরখারাপ ঐসব তুচ্ছ কারণ নয়........

------ আর শোন না ভাই... একটু জি বাংলাটা ধরে দিও না...!!!!

(সম্পূর্ণ সইত্য ঘটনা, আপন চক্ষুচতুর্ষ্টয় দ্বারা দেখা ও শোনা)