Saturday, October 28, 2017

সাধারণত রেস্তোঁরা-ফেস্তোঁরা নিয়ে বেশি কিছু বলিনা.... আসলে আলসারের রুগী হলে যা হয় আরকি.... ইচ্ছে থাকলেও বেশি উপায় নেই। তবু যে মাঝে মাঝে এট্টু চাখাচাখি করিনা যে তা নয়।
লিখতে বসলাম কারণ সরকারী উদ্যোগে এত ভালো একখানা লজ অ্যান্ড রেস্তোঁরা সত্যিই ভাবতে পারিনি। কার্শিয়াং-এ ঘুরতে গেসলুম আজ বন্ধুটিকে নিয়ে। তা সেই নিয়ে গেল....কার্শিয়াং ঢোকার মুখেই (NH-55) মোটামুটি কার্শিয়াং স্টেশনের ১কি.মি আগে এইটে। প্রথমেই তো বাইক থামিয়ে ওকে নামতে দেখে বললাম এতে যাবি? আর কোনকিছু নেই আগে গিয়ে?
না না West Bengal Tourist Development Corporation এর লজ ও রেস্তোঁরার বোর্ড দেখে নয়। এত ঝাঁ-চকচকে একখানা বাড়ি দেখে..... কত খসতে পারে সেই এস্টিমেট করে নিই আগে... কেননা "কেয়া করেঁ সাব, হামি গরীব আদমি"।
আশ্বস্ত হয়ে ভেতরে ঢুকে হাঁ হয়ে গেলাম। ঝকঝকে কাঠের মেঝে আর দেওয়াল.... সব একেবারে ঝকঝকে তকতকে.... ইউনিফর্ম পরা ওয়েটাররা সমাদর করেই বসাল। আর কি বড় বড় জানালাগুলো দিয়ে কি অপূর্ব ভিউ আশেপাশের পাহাড়গুলির পাহাড়ের গায়ে ধূপীবন আর ওপাশে শহরের ।
আমি আবার যে কোন রেস্তোঁরায় গেলেই একটা জিনিস চেক করি.... ওয়াশরুম !! হুম বাবা যত ঝকঝকে বাইরে করে রাখো না কেন... ওয়াশরুমে ঢুকলেই বোঝা যায় আসলে খবর। তা ব্যাগ পত্তর নামিয়ে সেদিকে গিয়ে আমা হেন জোঁকের মুখে নুন। কাঠের মস্ত মস্ত পলিশ্ ড দরজা। ভেতরে সব একেবারে পাতি বাংলায় যাকে বলে 'গ্লেজ মারছে" টয়লেট বৌল অবদি। (তাই তো বলে বোধহয়... কে জানে? ঐগুলোকেও কমোড বলেই ডেকে এসেছি।) আর ওডোনিলের সুবাস চারপাশে।
তবু আমি ছাড়ব না.... সরকারি উদ্যোগ আর খুঁত থাকবেনা? ফাঁকিবাজি হবেনা? নিশ্চই রান্না খারাপ....না হলে তিনদিনের বাসি রান্না গরম করে দেবে, টকটক গন্ধ ছাড়বে হাল্কা হলেও। যা হোক বন্ধুটির ঘাড়েই অর্ডারের দায়িত্ব দিলাম।.... চিকেন রোস্ট, ফিশ ফিংগার, চিজ আর চিকেন স্যান্ডুইচ দু প্লেট করে।এলো খাবার বেশ পরিস্কার শুভ্র প্লেটেই। ওমা!! এটিতেও কোন খুঁত নেই। দারুন সুস্বাদু, পঁচা নয়, গন্ধ ছাড়ছে না, আধকাঁচা রান্না নয়... সব একদম সুপারফাইন।
শেষপাতে মোহিত করা সুগন্ধী মকাইবাড়ির চা। পট সিস্টেম.... বড়সড় টী-পটের একপট চা ৬০/- তাতে দিব্যি চারকাপ চা হয়ে যায়। সাথে স্ট্রেইনার, সুগার বৌল দেবে। বন্ধুটিই সার্ভ করল... ঢালার সময়েই বুঝতে পারলাম পয়সা উসুল.... সুগন্ধে ভুরভুর করছে কাপ.... চাইলে ফ্রেশ ক্রীমের বৌলও দিয়ে যায়...
তবে কিনা অমন পাপ করতে নেই, যেসব পাপী জনগন দার্জিলিং চায়েতে দুধ বা ক্রীম মিশিয়ে ওটিকে ধ্বংস করেন.. তাপ্পর মুখ সিঁটকে বলেন... দূর কোন স্বাদ পেলুম না... এথ্থেকে আমাদের দানা -চা কড়া করে দুধ দিয়েই ভালো। তাদের জন্য চা-স্বর্গে প্রবেশ নিষেধ। এই চা-য়েতে হালকা করে চিনি দিয়ে জানালা দিয়ে মেঘ-কুয়াশার খেলা দেখতে দেখতে যে স্বর্গসুখ পেলাম আহা....।
বেঁচে থাকো বাপ....West Bengal Tourist Development Corporation এমন সার্ভিস পাব জীবনে আশা করিনি।
ইয়ে থ্যাঙ্কস আমার বন্ধুটিকে, আনন্দবাজারে আছে তাই এদিক সেদিক ঘুরে বেড়াতে হয় বলে এইসব জায়গার খোঁজখবরগুলো বেশ লাগিয়েছে। ওর কাছেই শুনলাম এইরকম ভালো West Bengal Tourist Lodge আর আরেকটি জায়গাতেই আছে নর্থে সেটি মালবাজারে। ঐখানেও অভিযান চালাতে হবে দেখছি শিগগিরই।
                 
 — in Kurseong.

No comments:

Post a Comment