Saturday, October 28, 2017

দ্য ন্যাপকিনস

ডিসক্লেইমার:- মাইরি বলছি, হাস্যকর শোনালেও সর্ব্বৈব সত্য ঘটনা। স্থান, কাল, পাত্র কোনটাই কাল্পনিক নয়।

ব্যাপার হল... আমাদের স্কুলে pubescent মেয়েদের স্যানিটারি ন্যাপকিনের হঠাৎ দরকার পড়ে গেলে স্কুল থেকেই দেওয়া হয়.... টিচার্স রুমের এককোণে একখানা বড় বাক্সে থাকে, মেয়েরা এসে ম্যাডামদের বললে, তারাই দিয়ে দেন। 
তা বেশ, সে ভালো কথা, তবে ঘটনা কিন্তু সেইটে নয়।
আসল খোরাকটা বলবার আগে এট্টু কনটেক্সটটা বলে নিই। ন্যাপকিনের সাপ্লাইগুলো আসবার পর আমাদের পিওনদাই সেগুলো বাক্সে ভরে রাখে,
মাঝে মাঝে কোন সংস্থা স্কুলে এই বয়ঃসন্ধিকালীন সচেতনতা নিয়ে মিটিং বা শিবির করতে এলে, হেডমাস্টার পিওনদাকেই বলেন ন্যাপকিনের প্যাকেটগুলো নিয়ে আসতে।
এবার আসি সেই ঘোরালো ঘটনাটায়।
সেদিনটায় হল কি, অন্যান্য অনেক স্কুল থেকে বেশ কিছু ম্যাডামরা এসেছেন, Work Education নিয়ে কি একটা মিটিং। সেটা হেডুর ঘরেই হচ্ছে। আমাদের হেডু আবার গেস্টদের খাতির করেন খুব (নিজের এমপ্লয়িদের এককাপ বাসি চা-ও দেন না সে আলাদা কথা, যাগগে)। মিষ্টি-ফিষ্টি, সিঙ্গারা-টিঙারা গরম গরম আনিয়ে খাওয়ানো হয়েছে.....

তাপ্পরেই লাগল সেই গন্ডগোলটা, খাওয়াদাওয়া-টাওয়া সব শেষ করে, হাত মুছবার জন্য ম্যাডামরা রুমাল খুঁজতে লেগেছেন..... হেডু বেশ কেৎ মেরে ওদিকে পিওনদাকে ডেকে বলেছে কিছু ন্যাপকিন নিয়ে আসতে ম্যাডামদের জন্য।

পিওনদা এদিকে সম্বৎসর ন্যাপকিন বলতে ঐ স্যানিটারি ন্যাপকিনের কথাই বুঝে এসেছে। হাত মোছার জন্য যে টিস্যু পেপার চাইছে সেইটে কে জানে?
পিওনদা তাই সোজা টিচার্স রুমে ঢুকে, স্যানিটারি ন্যাপকিনের গোটা কার্টনটা দু'হাতে ধরে হেডুর ঘরের দিকে হনহনিয়ে দৌড়।
ভাগ্যে হেডুর ঘরে কাঁচের দরজা, তাই পিওনদা ঢোকার আগেই .... হাঁ হাঁ করে পিওনদাকে ঘরের বাইরেই আটকে হেডুর বিপর্যয় রদ সম্ভব হল।
পরে সব সামলে টামলে, পিওনদা আমাদের ঘরে এসে বলে-- ভাগ্যিস কার্টন থেকে বের করে সোজা প্যাকেটগুলো নিয়ে যাইনি !!

No comments:

Post a Comment