হুম বাবা মাধ্যমিক পরীক্ষা... আবারও সিট পড়েছে আমাদের স্কুলে, তার ওপর কিনা মেন ভেন্যু, এট্টু কেৎ মেরে না গেলে চলবে কেন? তাই চান-টান করে খুব কষে শেভ করা গেল। সম্বৎসর হালকা চটি দিয়ে চালিয়ে দিই... এবার ঝেড়েঝুড়ে জুতোজোড়া বের করা গেল। শার্ট ছেড়ে একখানা টি-শার্ট আর জাম্পার (ইস... একখানা কেডস কিনলে হত.. আজ টাইম নেই যাগগে কাল দেখা যাবে।) আমাজনের কল্যানে ডিসকাউন্টে কেনা বড় ডায়ালের ফ্যান্সি ঘড়ি বেরুল। এই বয়সে যতটা ইয়ং সাজা যায় সাজাও গেল (ইয়ে বয়স কিন্তু তা-বলে আবার বেশিও নয়। তা বলে আরো কমানোর চেষ্টা করবনা ?..... বয়স কমানো সব মানুষের মৌলিক অধিকার। কেবল মেয়েরা কমাবে কেন? জেণ্ডার ইক্যুয়ালিটি বলে কথা আছে না? )
এদিকে স্কুলের সামনে বাস-স্টপ নেই। বেসরকারি বাস-টাস গুলোই চিরকাল দাঁড়িয়ে থাকে। স্টেট বাসগুলো সব গ্রাম্ভারি সরকারি যন্তর... দাঁড়াতে চায়-টায় না। জংশনে গিয়ে যেই অভ্যাসমত বেসরকারি বাসে উঠতে গেছি..... দেখি কেয়া তাজ্জব কি বাত!!! আজ স্টেট বাসের থেকেই মধুর ডাক -- এটাতে চলে আসুন... আজ তো মাধ্যমিক, স্কুলের সামনে দাঁড়াবে। আহা.. আহা.. কোন সে স্টেটের স্বপ্ন নিয়ে যেন আমায় কে ডাকে আয় চলে আয়।
একদম ভুলে গেছিলাম ! এই অর্ডারখানা আছে বৈকি.... এ'কদ্দিন হচ্ছে হম লোগোঁকা প্রতিশোধ নেবার হপ্তা। যে সব ট্যারা কন্ডাকটর আধ কিলোমিটার দুরে নামিয়ে দেয়... তাদের ওপরে ঘ্যামসে -- মাধ্যমিকের ডিউটি.... অর্ডার আছে নামাতেই হবে.... বলে দিব্যি তূরীয় আনন্দ ভোগ করা যায়। না নামালে এনবিএসটিসির আর লোকাল থানার নাম্বার নেওয়া আছে.... হুম বাবা.... রিভেঞ্জ ইজ আ ডিশ উই গেট টু সার্ভ কেবল ওয়ান্স এ ইয়ার।
যা হোক স্কুলের ভেতরে গিয়ে দেখি বিরাট মেলা বসেছে....মাঠে চাদর পেতে অভিভাবিকাগণ (ইয়েস অভিভাবিকাগণ.... অভিভাবকগণ অত চাপ খাওয়া ও চাপ দেওয়া পার্টি নন। তাদের ছেলে মেয়েদের তাদের ওপর পূর্ণ আস্থা আছে। ভালো করলে ভালো... না করলে চরে খা ব্যাটা !) সন্তানদের প্রি-পরীক্ষা কোচিং দিচ্ছেন, এক্ষুণি মঙ্গলযান বৃহস্পতিতে ছাড়া হবে মতো ভয়ানক সিরিয়াস মুখ করে। যত না ছাত্র-ছাত্রীদের ভিড়.... তার চাইতেও তিনগুণ তাদের গার্জেনদের ভিড়। পরীক্ষার্থীদের টেনশন তো কিস্যু নয়... তার চাইতেও চৌদ্দগুণ টেনশন আহত মুখ নিয়ে গার্জেনরা ঘুরছে.... শেষে মেয়েকেই না অজ্ঞান হয়ে পড়া মা'কে সামলাতে হয়।
মেয়েদের মায়েদের কাছে ইয়া ঢাউস সব ব্যাগ.... ওতে জলের বোতল, পেটখারাপের ওষুধ, মাথা ব্যাথার ওষুধ, ইনসমনিয়ার ওষুধ, তালমিছরী, ঈশবগুল, রিভাইটাল,কমপ্লান, হরলিক্স, হোমিওপ্যাথী-অ্যালোপ্যাথী-সিমপ্যাথী-এমপ্য াথী খুঁজলে পুরো নিউ মার্কেট পাওয়া যেতে পারে।
এদের হল থেকে তাড়িয়ে পরীক্ষা শুরু করাই মুশকিল ! কাইন্ডলি বাইরে যাবেন আপনারা বললে, এমন করুণ মুখ করে কেউ কেউ তাকান যে নিজেদেরই গিল্টি ফিল হতে বাধ্য... ইসসস.... আহা উনাকেও একখানা বেঞ্চে বসিয়ে দিই না কেন...খাতা-টাতা দিয়ে।
অনেক কষ্টে যদিও বা নামানো গেল.... নিচে মাঠের থেকে চিৎকার করে উপদেশাঞ্জলি বিতরণ শুরু হল.....যদিও সম্মিলিত উপদেশাবলী মিশ্রিত হয়ে বিচিত্র একখানা র্যাপ গানে পরিণত হয়েছে সেইটে যে কারোরই কানে ঠিকঠাক পৌছনো মুশকিল....। তবে ব্যপার হল... সবারই যেহেতু মেন কন্টেট এক, সেজন্যে সারমর্ম বোধহয় মর্মে ঠিক প্রবেশ করে গেছে পাত্র-অপাত্র নির্বিশেষে ।
একজন অভিভাবকের তো দুশ্চিন্তায় পুরো গজনি কেস.... সর্ট টার্ম মেমরি লসে ভুগছেন। মেয়েকে হাত ধরে ঘরে বসিয়ে নিচতলায় নেমে এসে, মাঠ থেকে চিৎকার করছেন মেয়ের উদ্দেশ্যে.... ওরে, মৌ ! ঠিকঠাস পৌঁছেসিস তো?
এদিকে কাজের মাসিকে অবাক করে পাঁচদিন ছুটি দিয়ে... মায়েরা শতরঞ্চি, জলের কুঁজো, গত শীতে না বোনা উল, হাওয়া খাওয়ার খবরের কাগজ নিয়ে চলে এসেছেন। গেট বন্ধ হলে প্ল্যাটফর্মে উপবিষ্ট অপেক্ষারত যাত্রীর মত বাইরে দোকান-টোকানের বারান্দায় বসে পড়বেন... তারপর পরীক্ষা শেষে গেট দিয়ে মেয়ে বেরুলেই ব্যাঘ্রঝম্পনে প্রশ্নপত্র দখল ও পুনরায় পরীক্ষা... পাঁচ নম্বরটার উত্তর কি লিখেছিস? রচনাটা কালকেই মুখস্থ করলি না? সবকটা পয়েন্ট লিখেছিস?... অ্যাঁ এইটে ছেড়ে এসেছিস? গত অমাবস্যার দিনই না মুখস্থ করালাম? বাড়ি চল তোর হচ্ছে।
(মোরাল অফ দ্য স্টোরি--- সাজগোজটা মাঠে মারা গেল। এত গোলমালের মধ্যে একজনও ফিরে তাকাল না।)
এদিকে স্কুলের সামনে বাস-স্টপ নেই। বেসরকারি বাস-টাস গুলোই চিরকাল দাঁড়িয়ে থাকে। স্টেট বাসগুলো সব গ্রাম্ভারি সরকারি যন্তর... দাঁড়াতে চায়-টায় না। জংশনে গিয়ে যেই অভ্যাসমত বেসরকারি বাসে উঠতে গেছি..... দেখি কেয়া তাজ্জব কি বাত!!! আজ স্টেট বাসের থেকেই মধুর ডাক -- এটাতে চলে আসুন... আজ তো মাধ্যমিক, স্কুলের সামনে দাঁড়াবে। আহা.. আহা.. কোন সে স্টেটের স্বপ্ন নিয়ে যেন আমায় কে ডাকে আয় চলে আয়।
একদম ভুলে গেছিলাম ! এই অর্ডারখানা আছে বৈকি.... এ'কদ্দিন হচ্ছে হম লোগোঁকা প্রতিশোধ নেবার হপ্তা। যে সব ট্যারা কন্ডাকটর আধ কিলোমিটার দুরে নামিয়ে দেয়... তাদের ওপরে ঘ্যামসে -- মাধ্যমিকের ডিউটি.... অর্ডার আছে নামাতেই হবে.... বলে দিব্যি তূরীয় আনন্দ ভোগ করা যায়। না নামালে এনবিএসটিসির আর লোকাল থানার নাম্বার নেওয়া আছে.... হুম বাবা.... রিভেঞ্জ ইজ আ ডিশ উই গেট টু সার্ভ কেবল ওয়ান্স এ ইয়ার।
যা হোক স্কুলের ভেতরে গিয়ে দেখি বিরাট মেলা বসেছে....মাঠে চাদর পেতে অভিভাবিকাগণ (ইয়েস অভিভাবিকাগণ.... অভিভাবকগণ অত চাপ খাওয়া ও চাপ দেওয়া পার্টি নন। তাদের ছেলে মেয়েদের তাদের ওপর পূর্ণ আস্থা আছে। ভালো করলে ভালো... না করলে চরে খা ব্যাটা !) সন্তানদের প্রি-পরীক্ষা কোচিং দিচ্ছেন, এক্ষুণি মঙ্গলযান বৃহস্পতিতে ছাড়া হবে মতো ভয়ানক সিরিয়াস মুখ করে। যত না ছাত্র-ছাত্রীদের ভিড়.... তার চাইতেও তিনগুণ তাদের গার্জেনদের ভিড়। পরীক্ষার্থীদের টেনশন তো কিস্যু নয়... তার চাইতেও চৌদ্দগুণ টেনশন আহত মুখ নিয়ে গার্জেনরা ঘুরছে.... শেষে মেয়েকেই না অজ্ঞান হয়ে পড়া মা'কে সামলাতে হয়।
মেয়েদের মায়েদের কাছে ইয়া ঢাউস সব ব্যাগ.... ওতে জলের বোতল, পেটখারাপের ওষুধ, মাথা ব্যাথার ওষুধ, ইনসমনিয়ার ওষুধ, তালমিছরী, ঈশবগুল, রিভাইটাল,কমপ্লান, হরলিক্স, হোমিওপ্যাথী-অ্যালোপ্যাথী-সিমপ্যাথী-এমপ্য
এদের হল থেকে তাড়িয়ে পরীক্ষা শুরু করাই মুশকিল ! কাইন্ডলি বাইরে যাবেন আপনারা বললে, এমন করুণ মুখ করে কেউ কেউ তাকান যে নিজেদেরই গিল্টি ফিল হতে বাধ্য... ইসসস.... আহা উনাকেও একখানা বেঞ্চে বসিয়ে দিই না কেন...খাতা-টাতা দিয়ে।
অনেক কষ্টে যদিও বা নামানো গেল.... নিচে মাঠের থেকে চিৎকার করে উপদেশাঞ্জলি বিতরণ শুরু হল.....যদিও সম্মিলিত উপদেশাবলী মিশ্রিত হয়ে বিচিত্র একখানা র্যাপ গানে পরিণত হয়েছে সেইটে যে কারোরই কানে ঠিকঠাক পৌছনো মুশকিল....। তবে ব্যপার হল... সবারই যেহেতু মেন কন্টেট এক, সেজন্যে সারমর্ম বোধহয় মর্মে ঠিক প্রবেশ করে গেছে পাত্র-অপাত্র নির্বিশেষে ।
একজন অভিভাবকের তো দুশ্চিন্তায় পুরো গজনি কেস.... সর্ট টার্ম মেমরি লসে ভুগছেন। মেয়েকে হাত ধরে ঘরে বসিয়ে নিচতলায় নেমে এসে, মাঠ থেকে চিৎকার করছেন মেয়ের উদ্দেশ্যে.... ওরে, মৌ ! ঠিকঠাস পৌঁছেসিস তো?
এদিকে কাজের মাসিকে অবাক করে পাঁচদিন ছুটি দিয়ে... মায়েরা শতরঞ্চি, জলের কুঁজো, গত শীতে না বোনা উল, হাওয়া খাওয়ার খবরের কাগজ নিয়ে চলে এসেছেন। গেট বন্ধ হলে প্ল্যাটফর্মে উপবিষ্ট অপেক্ষারত যাত্রীর মত বাইরে দোকান-টোকানের বারান্দায় বসে পড়বেন... তারপর পরীক্ষা শেষে গেট দিয়ে মেয়ে বেরুলেই ব্যাঘ্রঝম্পনে প্রশ্নপত্র দখল ও পুনরায় পরীক্ষা... পাঁচ নম্বরটার উত্তর কি লিখেছিস? রচনাটা কালকেই মুখস্থ করলি না? সবকটা পয়েন্ট লিখেছিস?... অ্যাঁ এইটে ছেড়ে এসেছিস? গত অমাবস্যার দিনই না মুখস্থ করালাম? বাড়ি চল তোর হচ্ছে।
(মোরাল অফ দ্য স্টোরি--- সাজগোজটা মাঠে মারা গেল। এত গোলমালের মধ্যে একজনও ফিরে তাকাল না।)
No comments:
Post a Comment